• মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
জিগস পদ্ধতির আলোকে শ্রেণিকক্ষে কার্যকর শিখন নিশ্চিতকরণে শিক্ষকের ভূমিকা সফলতার সোপান: ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের গুণাবলী বিঝু: পাহাড়ি সংস্কৃতির প্রাণ, নবজীবনের আহ্বান কালীগঞ্জের আসিফ ইসলামের জাতীয় কুরআন তেলাওয়াতে প্রথম স্থান মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়ে উৎসাহিত করলো বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন দাউদকান্দির গৌরীপুরে সাহিত্যজাগরণের উৎসব: অনুশীলন লেখক পরিষদ বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা সম্মেলন ২০২৬ হাইব্রিড শিক্ষার নতুন দিগন্ত: যানজট, জ্বালানি সাশ্রয় ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হোক সবার শিক্ষকের জীবনমান, কোচিং-নির্ভরতা ও শিক্ষাক্রমের সংকট: বাংলাদেশের শিক্ষা বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি বিশ্ব জুড়ে বাজিমাত ফাতেমার ‘কিডস স্পেশাল আচার’
Notice
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে একদুয়ারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মনোহরদী, নরসিংদী তে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি চলছে।           ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রংপুরে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি চলছে।

Reporter Name / ২০৬ Time View
Update : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

ব্লুমের রিভাইজড ট্যাক্সোনমি: শিক্ষণ ও মূল্যায়নের একটি আধুনিক এবং কার্যকর কাঠামো

শিক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন ডেস্ক, আলোধারা।

ভূমিকা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের চিন্তন দক্ষতা বা ‘Thinking Skills’ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে সারা বিশ্বে শিক্ষাবিদদের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং বৈজ্ঞানিক কাঠামোটি হলো ‘ব্লুমের ট্যাক্সোনমি’ (Bloom’s Taxonomy)। বিশেষ করে, ২০০১ সালে লরিন অ্যান্ডারসন এবং ডেভিড ক্রাথহোল কর্তৃক পরিমার্জিত সংস্করণটি বা ‘ব্লুমের রিভাইজড ট্যাক্সোনমি’ বর্তমান সৃজনশীল ও যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের মূল ভিত্তি। আজকের প্রতিবেদনে আমরা এই কাঠামোর আদ্যোপান্ত এবং শ্রেণিকক্ষে এর সঠিক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করব।

প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস: ১৯৫৬ সালে শিক্ষাবিদ বেঞ্জামিন ব্লুম শিক্ষার উদ্দেশ্যগুলোকে শ্রেণিবিন্যাস করার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করেন, যা ‘ব্লুমস ট্যাক্সোনমি’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর, ২০০১ সালে ব্লুমের ছাত্র লরিন অ্যান্ডারসন এবং সহযোগী ডেভিড ক্রাথহোল এটিকে আরও যুগোপযোগী করেন।

  • মূল পরিবর্তন: পুরাতন কাঠামোতে বিশেষ্য (Noun) ব্যবহার করা হয়েছিল (যেমন: Knowledge), কিন্তু রিভাইজড বা পরিমার্জিত সংস্করণে সেগুলোকে ক্রিয়াপদ (Verb) বা কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে (যেমন: Remembering)। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হলো—সর্বোচ্চ স্তর ‘মূল্যায়ন’ থেকে ‘সৃজনশীলতা’ বা ‘Creating’-এ উন্নীত করা।

জ্ঞানীয় ডোমেইন: চিন্তন দক্ষতার ৬টি স্তর: ব্লুমের রিভাইজড ট্যাক্সোনমি শিক্ষার্থীদের চিন্তন দক্ষতাকে নিচ থেকে উপরের দিকে মোট ৬টি স্তরে ভাগ করে। একজন শিক্ষার্থীকে নিম্নতর চিন্তন দক্ষতা থেকে ক্রমান্বয়ে উচ্চতর চিন্তন দক্ষতার দিকে ধাবিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

ধাপ-১: স্মরণ করা (Remembering) এটি চিন্তন দক্ষতার সর্বনিম্ন স্তর। এখানে শিক্ষার্থী পূর্বে শেখা তথ্য হুবহু মনে করতে বা স্মরণ করতে পারে।

  • শিক্ষার্থীর কাজ: সংজ্ঞা দেওয়া, তালিকা করা, চিহ্নিত করা।
  • উদাহরণ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কত তারিখে?

ধাপ-২: অনুধাবন করা (Understanding) তথ্যটি কেবল মুখস্থ না করে তার অর্থ বোঝা। শিক্ষার্থী নিজের ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারে।

  • শিক্ষার্থীর কাজ: ব্যাখ্যা করা, সারসংক্ষেপ তৈরি করা, উদাহরণ দেওয়া।
  • উদাহরণ: জলবায়ু পরিবর্তন বলতে কী বোঝায়?

ধাপ-৩: প্রয়োগ করা (Applying) অর্জিত জ্ঞান বা ধারণাকে নতুন কোনো পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা। এটি তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ধাপ।

  • শিক্ষার্থীর কাজ: সমাধান করা, ব্যবহার করা, প্রদর্শন করা।
  • উদাহরণ: পিথাগোরাসের উপপাদ্য ব্যবহার করে একটি ত্রিভুজের অতিভুজের দৈর্ঘ্য নির্ণয় করা।

ধাপ-৪: বিশ্লেষণ করা (Analyzing) কোনো জটিল বিষয়কে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করা এবং অংশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করা।

  • শিক্ষার্থীর কাজ: তুলনা করা, পার্থক্য করা, সম্পর্ক স্থাপন করা।
  • উদাহরণ: নবায়নযোগ্য এবং অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎসের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা।

ধাপ-৫: মূল্যায়ন করা (Evaluating) কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে কোনো ধারণা বা কাজের বিচার করা বা মতামত দেওয়া। এখানে শিক্ষার্থীকে যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হয়।

  • শিক্ষার্থীর কাজ: যাচাই করা, সমালোচনা করা, সিদ্ধান্ত দেওয়া, তর্কে অংশ নেওয়া।
  • উদাহরণ: “প্রযুক্তি শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক”—উক্তিটির পক্ষে তোমার যুক্তি দাও।

ধাপ-৬: সৃজন করা (Creating) এটি চিন্তন দক্ষতার সর্বোচ্চ স্তর। পূর্বের সকল জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কিছু তৈরি করা।

  • শিক্ষার্থীর কাজ: নকশা করা, রচনা করা, পরিকল্পনা করা, উদ্ভাবন করা।
  • উদাহরণ: পরিবেশ দূষণ রোধে তোমার বিদ্যালয়ের জন্য একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা (Action Plan) তৈরি করো।

জ্ঞানের মাত্রা (The Knowledge Dimension): রিভাইজড ট্যাক্সোনমি শুধুমাত্র চিন্তন প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি জ্ঞানের প্রকারভেদকেও চারটি ভাগে ভাগ করেছে:

  • তথ্যমূলক জ্ঞান (Factual): মৌলিক উপাদান বা পরিভাষা।
  • ধারণাগত জ্ঞান (Conceptual): তত্ত্ব, মডেল বা কাঠামোগত জ্ঞান।
  • প্রক্রিয়াগত জ্ঞান (Procedural): কীভাবে কোনো কাজ করতে হয় (যেমন: অংক করার নিয়ম)।
  • মেটা-কগনিটিভ জ্ঞান (Metacognitive): নিজের চিন্তন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান বা স্ব-সচেতনতা।

শ্রেণিকক্ষে ও মূল্যায়নে এর গুরুত্ব: বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাক্রম এবং সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি বা ধারাবাহিক মূল্যায়ন—সবকিছুর মূলে রয়েছে এই ট্যাক্সোনমি।

  • পাঠ পরিকল্পনা: শিক্ষক যখন লেসন প্ল্যান তৈরি করবেন, তখন তিনি নিশ্চিত করবেন যেন পাঠটি শুধুমাত্র স্মরণ বা অনুধাবন স্তরে আটকে না থাকে।
  • প্রশ্নপত্র প্রণয়ন: একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রশ্নপত্রে নিম্নতর দক্ষতা (স্মরণ ও অনুধাবন) এবং উচ্চতর দক্ষতা (প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সৃজন) এর সঠিক মিশ্রণ থাকতে হবে।
  • সক্রিয় শিখন: এই কাঠামো শিক্ষককে বক্তৃতা পদ্ধতির বদলে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কাজ বা প্রজেক্ট-ভিত্তিক শিখনে উৎসাহিত করে।

উপসংহার: ‘আলোধারা’ মনে করে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে ব্লুমের রিভাইজড ট্যাক্সোনমি কেবল তাত্ত্বিক বইয়ের পাতায় থাকলে চলবে না, একে নিয়ে আসতে হবে শ্রেণিকক্ষের প্রতিটি কোণায়। যখন একজন শিক্ষার্থী কেবল তথ্যের ধারক না হয়ে তথ্যের বিশ্লেষক এবং নতুন জ্ঞানের স্রষ্টা হিসেবে গড়ে উঠবে, তখনই সার্থক হবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা।

 


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

অভিনন্দন! দ্যা রয়েল কমনওয়েলথ রচনা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জন করার জন্য